চা’র থানার জমিদার অলি! লোক সাহিত্যের রঘু ডাকাতের কার্বন কপি!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেখতে অনেকটা বাংলা লোক সাহিত্যের রঘু ডাকাত কিংবা,কালু ডাকাতের মতোই। ভরা গাল,দুই কানের পাশে মোটা জুলফি,আর মুখে মোটা গোফ! দেখতে অনেকটা সেই লোক সাহিত্যের ডাকাত দলের সর্দার মনে হলেও বাস্তবে তিনি এখন আপাদ মস্তক ভদ্র লোক। হাতে দুটি আই ফোন,সোনায় মোড়ানো হাত ভর্তি আংটি,বিলাশ বহুল গাড়ি,সাথে ড্রাইভার। থাকেন নিজের টাকা’য় কেনা ফ্ল্যাটে! কি কপাল! শিক্ষা দীক্ষায়,নিজের নাম লিখতে না পারলে ও তিনি ক্যাশিয়ার। তাও আবার পুলিশের! নাম তাঁর অলি উদ্দিন প্রকাশ ক্যাশিয়ার অলি!
জমিদারি স্থান
আকবরশাহ,ডবলমুরিং,বায়েজিদ,চকবাজার,এই চার থানার অলিখিত ক্যাশিয়ার তিনি। এই চার থানার ওসির নাম বেচে মাদক,জুয়া,পতিতা বাণিজ্য,ফুটপাত দখল,চোরাই তেলের দোকান,চোরাই গাছের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ,মেজেস পার্লার,চোরাচালান, সহ একাধিক স্পট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন এই অলি।
অনুসন্ধান বলছে,এই চার থানা এলাকা থেকে গড়ে চাঁদা উঠে প্রায় ১ কোটি। চার থানার অদৃশ্য একাউন্টে মাসে চলে যায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। বাকী ৩০ লক্ষ টাকা যায় অলির পকেটে।
অলি’ উত্তান-
অভাবের তাড়নায় নোয়াখালীর সূর্বণচরের সেই অলি চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশনে কুলিগিরি করে এই এক সময় জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিছুদিন কাজ করতেন ভাসমান টোকাইয়ের। এরপরই পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেন। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি অলিকে। হয়ে যান ক্যাশিয়ার অলি। নামের পাশে যুক্ত হয় ভাই!
বিলাশ বহুল জীবন-
বস্তিতে জীবনের অর্ধেক সময় পার করে,এখন থাকেন ৭০ লক্ষ টাকা দামের ফ্ল্যাটে। পাহাড়তলী এলাকার লাকী হোটেলের ঠিক বিপরীতে ৬ তলা ভবনের ৫ম তলায় একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। বিলাশ বহুল গাড়ি সাথে ড্রাইভার। কিন্তু এতো আয়ের উৎস জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি হালকা মোটরযানের ক্যাশিয়ার!
তবে,এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই ক্ষেপে যান অলি। তিনি এই বিষয়গুলোকে পুরোই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেন।
