১শ বস্তা সার গিলে খেল পতেঙ্গা থানার এসআই!
নগরের পতেঙ্গায় নৌ পথে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্য ৪৫০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করে কোষ্ট গার্ড। সেই জব্দ মাল বুঝিয়ে দেয় পুলিশকে। কিন্তু রক্ষকই হয়ে গেল ভক্কক। জব্দের ৪৫০ বস্তা সার থেকে ১০০ বস্তাই বিক্রি করে দিল খোদ পুলিশ। বিক্রিত সেই মাল সহ আবার হাতেনাতে ধরলো আরেক পুলিশ। হলো একই ঘটনায় দুই মামলা।
বলছিলাম,নগরের পতেঙ্গা থানার কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজিবুল ইসলাম তানভীরের ফিসিস্তি।
চুরির এমন ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যস্থ হয়েছে পড়েছে খোদ ওসি। ওসির বক্তব্য অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতোই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সার চুরি ধরা খাওয়ার পরেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানা জানি বলে অন্যত্র থেকে সারের বস্তা এনে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা সরাসরি তত্তাবধান করেন পতেজ্ঞা থানার ওসি পারভেস মিয়া।
অনুসন্ধান বলছে,চলতি বছরের ৩১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে নগরের পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্য প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ৪৫০ বস্তা ডিএপি সার এবং পাচারে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোট জব্দ করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। একই অভিযানে ২৩ জনকে আটক করা হয় এবং এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
অনুসন্ধান বলছে,৪৫০ বস্তা জব্দ তালিকাভুক্ত সার থেকে ৯০ বস্তা গোপনে বিক্রি করে কয়লার ডিপো ফাড়ির কনষ্টেবল আলাউদ্দিন। এই চুরির নেতৃত্ব দেন খোদ ফাড়ির ইনচার্জ নাজিমুল্লাহ তানভীর।
কর্ণফুলীর জুলধা এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। পরে সেই সার মিনি ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার সময় কর্ণফুলী থানার পুলিশ ট্রাকসহ ৫০ বস্তা সার জব্দ করে দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
অনুসন্ধান আরো বলছে,কোস্টগার্ড জব্দ করার পর সারগুলো তখনও কার্গো বোটেই সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে মালামাল হস্তান্তর বা গুদামজাত করার আগেই নৌযান থেকে ধাপে ধাপে সার বের করে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
পতেঙ্গা থানাধীন কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর, এএসআই শম্ভু নাথ এবং আনোয়ারা রাঙ্গাদিয়া ফাঁড়ি ও কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ কনস্টেবল আলাউদ্দিনের যোগসাজশে জব্দ করা সার থেকে ৯০ বস্তা কর্ণফুলীর জুলধা এলাকার মনিরের কাছে বিক্রি করা হয়। তথ্য সূত্র বলছে, পুরো লেনদেনের সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন কনস্টেবল আলাউদ্দিন।
মনির একটি মিনি ট্রাকে করে সারগুলো সরিয়ে নেওয়ার সময় কর্ণফুলী থানার শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শফি উল্লাহ জুলধা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ ৫০ বস্তা সার আটক করেন। পরে চোর চক্রের সদস্য মনির ও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
আপনার ফাড়িতে কোন চুরির ঘটনা ঘটেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজিবুল ইসলাম তানভীর বলেন,না। ওসি স্যার ডিসি স্যার রা এসে গুনে দেখেছে। মাল ঠিকই আছে।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলী বলেন,আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল, জব্দ করা মাল বিক্রি করেছে,এখন জব্দ করা মাল ঠিক আছে কিনা,সেটাই হলো আসল বিষয়। এখন তদন্ত ছাড়া কিছুই বলতে পারছিনা।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বন্দর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন,এরকম একটা কথা আমার কাছে আসছে,যাচাই বাছাই করছি।এতে যদি কারো কোন সংক্লিষ্টতা পাওয়া যায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।
জানতে চাইলে কোষ্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার শেখ শরীফ ইকবালকে সার চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে ধমকের সুরে বলেন,এটি আমার জানার বিষয় না। আমি জব্দ করে মাল বুঝিয়ে দিয়েছি।
